Saturday, 22 November 2014

না ফোটা ফুলের কান্না

পূবের আকাশে নেমেছে কুয়াশা
দূরে ধোঁয়াময় বাঁশঝাড়,
দিঘির জলে না ফোটা পদ্মের
আর্তনাদের উঁচু পাহাড়।

অলস, অবশ, বিষণ্ণ দুপুর,
শুয়ে আসে নাকো ঘুম,
সূর্য্যি ডোবে, আঁধার নামে
রাতি হয়ে আসে নিঝুম।

না ফোটা ফুলের কুঁড়িগুলো সব
দুর্বিসহ ব্যথায় জাগে,
গোলাপফুলের পাপড়িতে আজ
শীতের আমেজ লাগে।

কুকুর, বেড়াল শীতে কাঁপে,
মাঝরাতে শেয়াল ডাকে।
দিঘির জলে পদ্মপাতায়
রাতের শিশির জমে থাকে।

শীতের রাতে ঘুমায় সাগর,
বিশ্বের বরফে ঢাকা প্রান্ত।
রাতের আকাশে চাঁদ ও তারা
সারারাত জেগে থাকে অবিশ্রান্ত।

জোছনারাতে কত শত ছায়া
দিতে চায় পাড়ি চাঁদে।
না ফোটা ফুলের কুঁড়িগুলি সব
শীতের রাতে একা কাঁদে।

পৃথিবীর পান্থশালায়

দু’দিনের এই পান্থশালায়
কেহ আসে কেহ চলে যায়,
                   হাসি কান্নার দিন শেষ হয়।

কেহ কাঁদে, কেহ হাসে
কেহ আঁখিজলে ভাসে,
                     ঘরে ফিরে যাবার সময়।

দু’দিনের এই ভবের হাটে
মিথ্যার মেঘে বেলা কাটে,
                         সত্যিকথা বলতে লাগে ভয়।

মায়ার এই সংসার,
সর্বনাশা কাল ঝড়,
                      তিলে তিলে জীবনের ক্ষয়।

সুখ শান্তি ভালবাসা,
মিছে সবে করে আশা,
                       মনে জাগে দারুণ সংশয়।

শোক তাপ ব্যাধি জরা,
হৃদয়বীণা বিদীর্ণ করা,
                         প্রতি পলে আনে মৃত্যুভয়।

জীবন-মরণ

জীবন মানে চলমান সময়ের
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
জীবন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথে
পায়ে পায়ে পথ চলা।

জীবন মানে হৃদয় কাননে
পবিত্র হৃদয় কমল ফোটা।
জীবন মানে কান্না, ঘাম, রক্ত
নয়নের অশ্রুজল দু’ফোটা।

মরণ মানে চলমান
জীবনের অবরুদ্ধ পথ।
মরণ মানে হঠাৎ কখন
থমকে যাওয়া রথ।

মরণ মানে অসতর্ক মূহুর্ত,
জীবনের শেষ অধ্যায়;
মরণ লেখা আছে সবার
জীবন খাতার পাতায়।

Tuesday, 11 November 2014

আমার গাঁ
আমার গাঁয়ের সীমানার শেষে
দিগন্তমাঠ
আকাশতলে মেশে
সবুজ গাছের সারি আর দূরে অন্য গ্রাম
পথের বাঁকে বাঁকা নদী
বর্ষাকালে
হয় বেগবতী
কুল
কুল বহে চলে নদী অবিরাম
গাঁয়ের মাঝে নয়নদীঘি জলে
আছে ভরা শালুক, পদ্মফুলে
জাল ফেলে জেলেরা ধরে মাছ
সেই নয়নদীঘির উত্তর পাড়ে,
কুলকাঁটার ঝোপ ধারে ধারে
পূবের কোণে বিশাল এক বটগাছ

গাঁয়ের পাশে তাল খেজুরের সারি
রাঙামাটির গাঁকে দেখায় সুন্দর ভারি
ফকিরডাঙায় গরু, মোষ, রাঙীবাছুর চরে

রাঙামাটির লাল ধূলো সরানে
রাখাল বাজায় বাঁশি আপনমনে
দূরের আকাশে চিল বেড়ায় উড়ে















Saturday, 8 November 2014

অভিশপ্ত ফুলশয্যার রাত
রাতের আকাশে চাঁদ ওঠে
অভিশপ্ত ফুলশয্যার রাত
রাতের আকাশে তারারা মিট মিট করে জ্বলে
অভিশপ্ত ফুলশয্যার রাত
রঞ্জনের চোখে ঘুম নেই
অভিশপ্ত ফুলশয্যার রাত
নববধুর কণ্ঠে ভেসে আসে কান্নার সুর
এখন অনেক রাত
রাতের অন্ধকারে সারা পৃথিবী গভীর ঘুমে অচেতন
টেলিফোনে ভেসে আসে অপরিচিত কণ্ঠস্বর-
যাকে তুমি স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়েছো
সেই অলকা বিবাহিতা
অলকার স্বামী আছে, পুত্র আছে, সংসার আছে
রঞ্জনের মাথাটা ঘুরছে
সেকি স্বপ্ন দেখছে স্বপ্ন কি কভু সত্যি হয়?
একটা অস্ফুট চিৎকারের ধ্বনি
প্রতিধ্বনি হয়ে মাথা খুঁড়তে থাকে
রঞ্জনের দুচোখে আগুন জ্বলছে
রঞ্জনের উত্তেজিত কণ্ঠস্বর- অলকা,
তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে হয় নি
হয়েছে মালাবদল, মালাবদল বিয়ে নয়,
এ বিয়ে আমি স্বীকার করি না
আমি ছিঁড়ে দেব তোমার ফুলের মালা
ভেঙে দেব হাতের শাঁখা,
মুছে দেব সিঁথির সিঁদুর
তোমার আমার মধ্যে এক বিরাট ব্যবধান
আমার জীবনটা তুমি কেন
এভাবে নষ্ট করে দিলে অলকা?
অলকা নিরুত্তরসে কি বলতে পারে
তার স্বামী মদ খায়? তার ছেলে খুনী
অভিশপ্ত ফুলশয্যার রাতেই
ক্ষোভে, দুঃখে আর অভিমানে
রঞ্জন আত্মহত্যা করে
নিঃশেষ হল-
একটি নিষ্পাপ জীবন
অলকার দুচোখ জলে ভরে আসে




















সংখ্যার ছড়া
এক দুই তিন চার পাঁচ
বড়ো একটা ধরেছি রুইমাছ
দুই তিন চার পাঁচ ছয়,
আমরা করবো জয় সুনিশ্চয়
তিন চার পাঁচ ছয় সাত,
খাব মোরা মাছের ঝোল ভাত
চার পাঁচ ছয় সাত আট,
নদীর ধারে আছে শ্মশান ঘাট
পাঁচ ছয় সাত আট নয়,
রাতের বেলা আছে ভূতের ভয়
ছয় সাত আট নয় দশ,
অং বং চং বলো ভূত হবে বশ


ছায়ায় ঘেরা গ্রামটি আমার

ছায়ায় ঘেরা গ্রামটি আমার সবুজ চাদরে ঢাকা
গাঁয়ের পাশে অজয় নদী চলে আঁকা-বাকা
গাঁয়ের শেষ সীমানায়,
দূরে গ্রামের পাহাড়চূড়ো ঐ যে দেখা যায়
মায়ায় ভরা, ছায়ায় ঘেরা, মায়া মমতা মাখা,
ছায়ায় ঘেরা গ্রামটি আমার, সবুজ চাদরে ঢাকা

গাঁয়ের মাঝে পশ্চিম কোণে শেয়ালকাঁটার বন,
পথের বাঁকে শেয়াল ডাকে, রাতে যখন তখন
গ্রামের ঐ রাঙা মাটির পথে,
শঙ্খচিল নেমে আসে, সূদুর আকাশ হতে
রাঙা মাটির গন্ধে আমার ভরে ওঠে মন,
গাঁয়ের মাঝে পশ্চিম কোণে শেয়ালকাঁটার বন

চণ্ডীতলার আটচালা ঘর ভেঙে গেছে ঝড়ে,
তারই পরে সোনালি রোদ মুক্তো হয়ে ঝরে
শিশিরে ভেজা কচি সবুজ ঘাসে
শীতের সকালে হিমের কণা মুক্তো হয়ে হাসে
হিমেল হাওয়ায় ধীরে ধীরে কুয়াশা যায় সরে,
চণ্ডীতলার আটচালা ঘর ঝড়ে গেছে পড়ে