Wednesday, 29 July 2015

    বর্ষার কবিতা-11

সকাল হতেই বৃষ্টি ঝরে
নদীতে আসে বান,
ছানি মাথায় কৃষাণবধু
মাঠে পুঁতে ধান

ঘাসের বোঝা মাথা নিয়ে
বাতাসী বৌ আসে,
ছাগল দুটো তারই সাথে
চলছে পাশে পাশে

বেলা গেল সন্ধ্যা হল
ফুটল ঝিঙে ফুল,
নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা
শূণ্য নদীকূল

গোয়ালা পাড়ার পুকুরপাড়ে
ব্যাঙগুলো সব ডাকে,
পাহারদার লণ্ঠণ হাতে
জোর গলাতে হাঁকে

আকাশ কালো মেঘে ঢাকা
দেখি না চাঁদ তারা,
সারা রাতি বৃষ্টি পড়ে
ঘুমায় কিষাণ পাড়া







     বর্ষার কবিতা-12

সকাল হতেই বৃষ্টি পড়ে
আজকে সারা বেলা,
নদীপাড়ে বাঁধ ভেঙেছে,
লোকজনের মেলা

কোদাল হাতে কেউ আসে
কারো হাতে ঝুড়ি,
রুখতে হবে বাঁধকে আজি
তাইতো হুড়োহুড়ি

ছেলেবুড়ো সব এসেছে,
এসেছে পাড়ার ছেলে,
ঘাটের মাঝি সেও এসেছে
নৌকা বেঁধে কূলে

ঝুড়ি ঝুড়ি ফেলছে মাটি
ভাঙা বাঁধের উপর,
প্লাবন জলে ভেসে গেছে
গাঁয়ের মাটির ঘর

মেঘের পরে মেঘ জমেছে
আকাশ হয়েছে কালো
রিম ঝিম্ঝিম্ বৃষ্টি পড়ে,

জোরে বর্ষা নেমে এলো




Saturday, 23 May 2015





                         জীবনে চলার সাথী


ভালবেসে তুমিই প্রথম, ভেঙেছো হৃদয়কারা
হৃদয়মাঝে তুমি যে আমার আঁধার রাতের তারা

তোমার রূপে মোর মুগ্ধ আঁখি
বারেবারে তাই তোমারে দেখি,

মনের জগতে তুমি আমার জীবন নদীর ধারা
বিশ্বজুড়ে চলার পথে আমি পথিক, পথহারা

এগিয়ে এসে হাতটি ধরো হই যদি কভু দিশাহারা
ভালবেসে তুমিই প্রথম, ভেঙেছো হৃদয়কারা

জীবনপথে চলতে গিয়ে,
ধন্য আমি তোমায় পেয়ে,

সংসারে জীবন চলার পথে তুমি যে আমার ধ্রুবতারা
ভালবেসে তুমিই প্রথম, ভেঙেছো হৃদয়কারা

মোর চলার পথে তুমি সাথী  
আমার জীবনে ব্যথার ব্যথী

ভালবেসে তুমিই প্রথম, ভেঙেছো হৃদয়কারা

হৃদয়মাঝে তুমি যে আমার, আঁধার রাতের তারা

Thursday, 21 May 2015

   বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

                      বৃষ্টি পড়ে
                      টাপুর টুপুর,
                      বৃষ্টি ভেজা
                      সারা দুপুর।

সারাদিন
বৃষ্টি ঝরে,
গরু থাকে
গোয়ালঘরে।


                     বৃষ্টি পড়ে
                     মেঘ ডাকে,
                     পাখিরা সব
                     বাসায় থাকে।

গামছা গায়ে
হীরু দাস,
মাঠের আলে
কাটে ঘাস।

                      আঙিনায়
                      ধীরু পাল,
                      বাঁধে গরু
                      রাখে হাল।

গাঁয়ের বউ
কুয়ো তলায়,
জল তুলে
বাড়ি যায়।

                      রাজহাঁস
                      পুকুর-পাড়ে,
                      ঘন ঘন
                      পাখা নাড়ে।

সাঁঝের বেলা
সূয্যি ওঠে।
বৃষ্টি বাদল
গেছে টুটে।

Thursday, 14 May 2015


মোদের গ্রাম

ঐ যে দূরে, নদীর ধারে,
ছোট্ট মোদের গ্রাম
সেই গাঁয়েতে জন্ম আমার,
সেই গাঁ আমার প্রাণ

ছোট ছোট ছেলে, সকাল হলে
রোজ পাঠশালাতে যায়
গাঁয়ের রাখাল, নিয়ে গরুপাল,
মাঠে মাঠে গরু চরায়

ছোট ছোট ফুল, ফুটেছে কত,
ফুল-বাগানের মাঝে
মধুকর করে, মধু আহরণ
প্রত্যহ সকাল-সাঁঝে

ছোট গাঁয়ে, ছোট ছোট ঘর
অশ্বত্থ ও তেঁতুল গাছ
কাজলা দিঘিতে, জেলেরা সবে
প্রতিদিন ধরে মাছ

গাঁয়ের তাঁতিরা, সারাদিন বুনে
ধূতি, গামছা, শাড়ি
গাঁয়ের কুমোর, মাটি দিয়ে গড়ে
মাটির কলসি হাঁড়ি

ময়রা মুদি, অতি ভোরে উঠি
মিষ্টি সন্দেশ বানায়,
গাঁয়ের কামার, কামার শালায়,
দিনরাত হাতুড়ি চালায়

আমার গাঁয়ে, দিনের শেষে
সাঁঝের আঁধার নামে,
রাতের আকাশে, জোছনা হাসে,
ক্লান্ত নিঃঝুম গ্রামে

Thursday, 23 April 2015

আমি যে জানি না সাঁতার

পার করে দাও
এ ভব সাগর
আমি যে জানি না সাঁতার
নিভে গেছে দীপ
এ জীবনে আমার
নেমেছে গহন আঁধার
আমি যে জানি না সাঁতার

ষড়রিপু মোর
বশে না আসে,
বেঁধেছে আমারে
অক্টো পাশে
আমায় কর ভবসিন্ধু পার
আমি যে জানি না সাঁতার

ছিঁড়ে গেছে পাল,
ভেঙে গেছে হাল,
আমি যে অকূলে ভাসি
শ্রী গুরু কাণ্ডারী,
দেহ তব চরণতরী,
ধর হাত সম্মুখে আসি

দিন ফুরায়ে গেল,
জীবনে সন্ধ্যা এল,
স্মরণ করি শ্রীগুরুর নাম
গুরুনাম জপিলে,
শ্রীগুরু স্মরিলে,
অচিরে পাবে শ্রীবৈকুণ্ঠধাম
গুরু নাম জপ বারে বার
আমায় কর ভবপার
আমি যে জানি না সাঁতার

লক্ষ্মণ কহে শোন ভাই,
আর তো সময় নাই
শ্রীগুরুনাম জপ অনিবার
আমায় কর ভব পার
আমি যে জানি না সাঁতার