Friday, 20 May 2016

জোছনা রাতের কবিতা

আকাশ জুড়ে জোছনা ঝরিছে, চাঁদ উঠেছে হেসে,
কোটি তারকা জ্বালায় বাতি একসাথে মিলেমিশে
জোছনা ঝরে নদীর জলে, নদীজল ঝিকিমিকি করে,
আকাশ জুড়ে আলোর খেলা জোনাকিরা কেঁদে মরে

নিশুতি রাতে ঘুমোয় সারা গাঁ, তারারা শুধু জাগে,
চাঁদ হাসে আকাশের গায়ে, দেখতে ভালো লাগে
পথের বাঁকে শেয়াল ডাকে, ঘুম ভাঙে মাঝরাতে,
মাধবী আর মালতী লতা, শুয়ে আছে এক সাথে

চাঁদের আলো দেখতে ভালো মুক্তো ঝরে রাশি রাশি,
পাতায় পাতায় নিশির শিশির কথা বলে হাসি হাসি
মনের গহনে প্রাণের স্পন্দন , বাঁধে প্রীতির বাসা,
রাত কেটে শেষে ভোর হয়, মনে জাগে নব আশা

মায়াবী রাতে ঘুম নেই চোখে, আমি শুধু জেগে রই,

জীবনের খাতায়  রচিয়া কবিতা, মনে হয় কবি হই
ভূতোর দুষ্টুমি (ছড়ার কবিতা)
ভূতোর বাবা বল্লে সেদিন, শোন্ রে ভূতো শোন্
এক থেকে একশো পর্যন্ত তুই ভালো করে গোন্
বাবার দিকে তাকিয়ে ভূতো ফ্যালফ্যালিয়ে হাসে,
গুনতে গিয়ে সব ভুলে যায়, মনে কিছু না আসে

একটু পরে ভূতোর বাবা, বলে ভূতোকে ডেকে,
-আ ক-খ লেখতো বাছা, শ্লেটে দেখে দেখে
বাবার কথায় ভূতো তখন, সবকিছু ভুলে গিয়ে,
হিজি বিজি আঁচড় কাটে, শ্লেটে পেনসিল দিয়ে

এর পরে ভূতোর বাবা, বল্লে ভূতোর কাছে এসে,
ভালো করে পড়তো সোনা, আমার কাছে বসে
পড়ার ভয়ে ভূতো তখন কাঁদতে থাকে জোরে,
তাই না দেখে ভূতোর মা ছুটে আসে রান্না ছেড়ে

সোনা আমার মানিক আমার, মা বলে আদর করে,

মায়ের আদর পেয়ে ভূতো, হাসতে থাকে জোরে

Sunday, 21 February 2016


পৃথিবীর পান্থশালা

জীবনের এই পান্থশালায়, কেহ আসে কেহ যায়,
কেউবা হাসে, কেউবা কাঁদে, পৃথিবীর পাঠশালায়।
ঊষর মরুর তরুর ছায়ে, আশায় বাঁধি যে খেলাঘর,
জীবননদীর ঘুর্নিপাকে, সে তো চোরা বালির চর।

জীবনখাতার পাতায় বিধি, লিখে গেছে সুখ ও দুখ,
কেউবা থাকে অট্টালিকায়, কারো হেরি মলিন মুখ।
ভবের হাটে খেলতে এসে, গেলাম হেরে অবশেষে,
সারাজীবন কাটলো দুখে, মানুষেরে শুধু ভালবেসে।

কান্নাহাসির লুকোচুরি হেরি, জীবন নদীর কিনারায়,
শেষের দিনে, চিতার আগুনে, জ্বলে পুড়ে হয় ছাই।
ভাঙাগড়ার খেলা চলে, বিধাতার এই খেলাঘরে,
জীবননদীর বালুচরে, জীবন ও মরণ খেলা করে।

জীবনের এই নাট্যশালায়, সবকিছুই শুধু অভিনয়,
জন্ম হলেই মরতে হবে, ভবের সংসার মায়াময়।

জীবন নদীর তটে
অশ্রু ঝরা কান্না নিয়ে
গড়ে ওঠে আশার প্রাসাদ,
প্রবল ঝড়ে উড়ে গিয়ে,
ভেঙে পড়ে বাড়ির ছাদ।

আকাশ যদি ভেঙে পড়ে,
বিনা মেঘে হয় বজ্রপাত।
অন্ধকারে কেঁদে মরে,
আঁধারভরা মায়াবী রাত।

শ্মশান চিতায় ঝলসে ওঠে
মৃত মানুষের সারি।
ভাসে আজও হৃদয়পটে,
ভুলতে কভু কি পারি?

এ জীবন নিশার স্বপন,
ভালবাসা শুধুই অভিনয়।
অশ্রুজলে ভরে নয়ন,
প্রতি নিঃশ্বাসে ঝড় বয়।

Sunday, 22 November 2015

সোনা মাটির ধান (লোক কবিতা)




ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।

চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।
ও মাটির ধান রে ও সোনার ধান।

অঘ্রানেতে ধানের খেতে
সোনার ধান উঠে মেতে
আনন্দেতে সবাই মাতে, উথাল পাথাল পরান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে ও গায় মাটির গান।

সোনা ধান মাঠে মাঠে
চাষীরা সব ধান কাটে,
বেলা গেলে ঘরে ফেরে, দিন হলে অবসান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।

উঠোন মাঝে ধানের গোলা,
ধান রেখেছে চাষী ভোলা।
ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে, আসে সব কিষান।

ও মাটির ধান রে সোনা মাটির ধান।
ও সোনার ধান রে মাটির সোনা ধান।
চাষী গেছে মাঠে রে সে গায় মাটির গান।




Friday, 13 November 2015

দুটুকরো কবিতা

খবরের কাগজের
প্রথম পাতায়
লাল কালিতে লেখা
কবিতার মৃত্যু
দুঃসংবাদ!
দ্রুতগতিতে পৌঁছায়
এলো ওরা হাতে
রক্তাক্ত শানিত
রবারি লয়ে,
বর্বরোচিত ভাবে
হত্যা করলো একটা
নিষ্পাপ মেয়েটাকে
একটি ফুলের মৃত্যু
ভালবাসার মৃত্যু
...
কবিতা আজ আর নেই
সে মরে গেছে,
সে হারিয়ে গেছে,
সে ফুরিয়ে গেছে
কিন্তু মরে নি সে,
ভালবাসার মৃত্যু নেই
সে আজও বেঁচে আছে
আজ কবিতার পাতায়
দুটুকরো কবিতা হয়ে


সময় কথা বলে,
কান্না, ঘাম আর
রক্তের ফসলে
জমে ওঠে
মৃত কংকাল
ওরা অভিশাপ দেয়
শ্মশানে ফুলের গাছটা
শুকিয়ে গেছে
তবে কি কবিতা মরে গেছে?

দুটুকরো কবিতার
শেষ কথা
ভালবাসার অপমৃত্যু!
কবিতার মৃত্যু

একটি ফুলের মৃত্যু


Friday, 18 September 2015

     শরতের কবিতা-5

শরতের প্রভাতে সোনা ঝরা রোদ্দুর
উঁকি দেয় নীল আকাশের আঙিনায়
শিউলির ডালে কলি ফুটিল সকলি
নদীর ধারে কাশফুল সুগন্ধ ছড়ায়

কচি কচি ধানগাছে ভরা খেত মাঠ,
যেদিকে তাকাই দেখি সবুজ চারিদিক
ঘাসের আগায় পড়ে নিশির শিশির,
সূর্যের আলোয় তারা করি ঝিকিমিক

শাল পিয়ালের বনে, দূরে মাদল বাজে
অরন্যের ঘুম ভাঙে পূজোর খুশিতে
ঢাকীরা সব বাজায় ঢাক, কাঁসর বাজায়,
সবার চিত্ত আজি আনন্দে উঠে মেতে

মেঠো পথে গাঁয়ের বাউল চলে গান গেয়ে
একতারাতে বাউলগানের তোলে মিঠে সুর
নয়ন দিঘির কালে জলে শালুক পদ্ম ফোটে,
সেই দিঘির জলে খেলা করে সোনালী রোদ্দুর

রোজ বিকেলে পাড়ার ছেলে খেলে হা ডু ডু,
খেলার মাঠে চু কিত্ কিত্ কানামাছি খেলা
ঢাকের শব্দে জেগে ওঠে গাঁয়ের বামুনপাড়া,
মন্দিরেতে ঘণ্টা বাজে, প্রতি সন্ধ্যে বেলা

বাঁশবাগানে বাঁশগাছের মাথার উপর দিয়ে
আকাশে চাঁদ ওঠে, জোছনা পড়ে ঝরে
শারদ প্রাতে শুনি প্রভাত পাখির গান

শরতের আগমনে খুশিতে চিত্ত ওঠে ভরে