Monday, 15 December 2014

মা মাটি জন্মভূমি

গাঁ আমার, মাটি আমার, আমার জন্মভূমি
মেঠো গাঁয়ের মেঠো পথে, মাটির গান শুনি
      মাটিতে সোনার ফসল ফলে,
       মাটিকে ডাকি মা মা বলে,
মাটির বুকে শুয়ে থাকি, কল্পনার জাল বুনি
মাটি মায়ের গান আমি কান পেতে শুনি

সবুজ গাছের ছায়া আমার গাঁকে ঢেকে রাখে
সেই গাছেরই শাখে শাখে, নিত্য কোকিল ডাকে
       গাঁয়ের মাটি, গাঁয়ের ভাষা,
        মাটি মায়ের ভালবাসা,
গাঁয়ের পথে চলতে গিয়ে, মনে পড়ে মোর মাকে
বারে বারে আসতে মন চায় মাটি মায়ের ডাকে

গাঁ আমার মাটি আমার, মাটি আমার মা
গাঁয়ের ছায়া মাটির মায়া, ভুলতে পারি না
            সবুজ বনানী ছায়ায়,
         গাছের পাতায় পাতায়,
গাঁয়ের মাটিতে শিখেছি আমি মাটির বন্দনা
সেই জন্মভূমি মাটি আমার আসল ঠিকানা
























Tuesday, 9 December 2014

রক্তদান

শোন ওরে মানুষ ভাই,
ডাক দিয়েছে চল যাই
মিশে যাই মানুষের ভিড়ে

এক ফোঁটা রক্তদান,
রক্ত দিলে বাঁচে প্রাণ,
চলো যাই রক্তদান শিবিরে

বিন্দু বিন্দু রক্ত ঘাম,
জীবনের অনেক দাম,
সারা জীবন রক্ত ঝরায়

দুফোঁটা রক্তের তরে,
কত প্রাণ অকালে ঝরে,
জীবনের কোন দাম নাই

রক্তদান মহান দান,
রক্ত দিলে বাঁচে প্রাণ,
সবারে তাই করি আহ্বান

মানুষকে ভালবেসে,
মানুষের পাশে এসে,
এস সবাই করি রক্তদান















একটি গাছ একটি প্রাণ

একটি গাছ একটি প্রাণ
শোন রে মানুষ ভাই,
পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে,
গাছ লাগানো চাই

গাছ লাগালে বর্ষা হবে,
ফলবে সোনার ফসল,
গাছ কাটলেই প্রতি ধাপে
জীবন হবে অচল

গাছের ছায়ায় সুশীতল হয়
আর শান্ত পরিবেশ
গাছ লাগালে বাঁচবে জীবন
নইলে জীবন শেষ

গাছের শিকড় আঁকড়ে ধরে,
রোধ করে মাটির ক্ষয়
সবাই শোন গাছ কেটো না
পৃথিবী হবে লয়

জীবনের প্রতি নিঃশ্বাসে
আছে গাছের মহান দান
এসো আমরা সবাই বলি
একটি গাছ একটি প্রাণ
















ভোরের আলো

ভোরের আলো উঠল ফুটে,
রাতের আঁধার কাটে
নিয়ে গরুর পাল, গাঁয়ের রাখাল,
চলেছে দূরের মাঠে

ভোরের বেলা উঠে দেখি
ঘুম ভাঙানো পাখি,
গাছের শাখে, পাতার ফাঁকে,
করছে ডাকাডাকি

গাঁয়ের চাষীরা, করে মাঠে চাষ,
মাঠে মাঠে বেলা কাটে
দেখি খেয়ামাঝি, তরী টেনে আজি,
লাগায় নদীর ঘাটে

রাতি কেটে ভোর হয়,
সকালে সূর্য ওঠে
দিঘির ঘোলা, কালো জলে
শালুক পদ্ম ফোটে















আলো আঁধার

ফুলের সুগন্ধে, সুরের ছন্দে
ভুবন মেতেছে আনন্দে
প্রকৃতি কন্যা, রূপসী অনন্যা
নাচিছে সুর, তাল ও ছন্দে

পোহালে যামিনী, উঠে দিনমনি
দিঘিতে ফুটে ওঠে কমল
প্রভাতী হাওয়ায়, দোলা দিয়ে যায়
ধেয়ে আসে অলির দল

নিয়ে গরুপাল, চলেছে রাখাল
বাঁশি লয়ে নিজ হাতে
কাস্তে হাতে, চাষীরা মাঠে
সারাদিন ধান কাটে

পাখির পাখায়, আলোক হারায়,
সূর্য যায় অস্তাচলে
কান্না ও ঘামে, আঁধার নামে,
দিন অবসান হলে


















পৃথিবীর চোখে জল

কান্না দিয়ে কেনা পৃথিবীর
চোখে আজ জল
সততা ভুলে গিয়ে মানুষ
হয়েছে উচ্ছৃঙ্খল

অন্যায়, অবিচার, স্বেচ্ছাচার,
দিকে দিকে শুধুই হাহাকার

ন্যায়নীতি ভুলে কারা
দুনিয়াকে করেছে বিকল?
কান্না দিয়ে কেনা পৃথিবীর
চোখে আজ জল

কালের চাকা কেবল ঘুরছে,
প্রতিদিন কত মানুষ মরছে,

ভুখা মিছিলে হয়েছে সামিল
ক্ষুধাতুর মানুষের দল
মানুষের নেই আজ মান ও হুঁশ
মানুষ হয়েছে আজ সবাই অমানুষ,

মানুষে মানুষে আজ খুনোখুনি,
তবুও ঝরে না চোখে জল
কান্না, ঘাম, রক্তে গড়া
মর্য্যাদার প্রাসাদ নকল

কান্না দিয়ে কেনা পৃথিবীর
চোখে আজ জল
মানুষের চোখে তবুও কেন
ঝরে না নয়নের জল




















নুপুরের ঝংকার

জলধিতরঙ্গে শুনেছি আমি,
শুনেছি নুপুরের ঝংকার,
দেরী নাই ওগো আর দেরী নাই,
দাও খুলে রুদ্ধ দুয়ার
উত্তুরে হাওয়া বয়,
দেরী নয় ওগো আর দেরী নয়
হিমেল পরশে, ঘন কুয়াশায়,
আকাশ হয়েছে আঁধার
শুনেছি নুপুরের ঝংকার
ছন্দে সুরে সুরে তান
ভোরের পাখিদের গান
ওগো পাখিদের গান
শীতের ছোঁয়া লেগে, ভোরের হাওয়া
দোলা দেয় হৃদয়ে আমার
জলধিতরঙ্গে শুনেছি আমি,

শুনেছি নুপুরের ঝংকার